January 13, 2026, 3:32 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে কুষ্টিয়া সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে।
ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার থেকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে শীতের অনুভূতি বেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার কারণ ও কুয়াশার প্রভাব/
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান কণা বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা কাটছে না। ফলে সূর্যের আলো কম পাওয়া যাচ্ছে এবং শীতের অনুভূতি আরও বাড়ছে।
আসন্ন ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়বে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা কমবে না। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
চলতি জানুয়ারি মাসে মোট ৪-৫টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এক-দুটি তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।
জনজীবনে প্রভাব/
শীতের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। অনেকে কাজে বের হতে পারছেন না। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগী—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেড়েছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ শীত নিবারণের কাপড়ও ঠিকভাবে যোগাড় করতে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘন কুয়াশায় যানবাহন চালানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকে উষ্ণ কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যতœ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।